রাজিবকে বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন

এ এইচ এম তারেকুজ্জামান ফাইন প্রধান: রাজিব কে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন, পাটগ্রাম উপজেলা সোশাল মিডিয়া ব্যাপকভাবে প্রচারে।  সাড়া  উঠে সদা চঞ্চল ও হাস্যোজ্জ্বল দুরন্তপনা কিশোর ৮ম শ্রেণির পড়ে রাজিব(১৪)। বাবা-মায়ের দিনরাত হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পরিশ্রমের টাকায় চলে রাজিবের লেখাপড়া ও পরিবারের খরচ।
গরীব বাবা-মায়ের কোলে এই রাজিব জন্ম। যাকে ঘিরে বাবা-মায়ের নানা স্বপ্ন দেখছিল। ছেলে লেখা-পড়া শেষ করে মানুষের মত মানুষ হয়ে বাবা-মায়ের দঃখ-কষ্টকে চির বিদায় জানাবে। কিন্তু তার শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধ ব্লাড  ক্যান্সার  অর্থাভাবে বাবা-মায়ের আদুরে রাজিব হারিয়ে যেতে বসেছে।
ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছে রাজিবের জীবন প্রদীপ। রাজিবকে বাঁচাতে বাবা-মা সমাজের বিত্তবানদের কাছে জানিয়েছে করুন আকুতি। এমনকি এলাকার বড় ভাই বন্ধু-বান্ধব সকলেই তাকে বাঁচাতে দিনরাত ছুটছে মানুষের দারে দারে। এলাকার অনেকে রাজিবকে বাঁচাতে এলাকায় মাইকে প্রচারণা চালাচ্ছে। রিক্সায় মাইক বেধে সকলের কাছে তার জন্য সাহায্য চাওয়া হচ্ছে।
মৃত্যু পথযাত্রী রাজিব লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দক্ষিণ কোটতলী কেন্দ্রীয় কবরস্থান পাড়ার রিক্সাচালক আলিমুদ্দিনের পূত্র। সে উপজেলার ইসলামী আদর্শ বিদ্যা নিকেতনের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। বাবা রিক্সা চালিয়ে তার চার ছেলে মেয়ে সহ ছয় সদস্যের অসহায় ও অভাবী সংসারের অভাব মেটানোর চেষ্টায় দিন-রাত শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে সংসার চালাতে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত, সেখানে ছেলের জীবন বাঁচাবেন কেমন করে।
দিন যতই ঘনিয়ে আসছে হাস্যোজ্জ্বল রাজিবের মুখের হাসি যেন ক্রমেই মিলিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে রাজিব রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. একেএম কামরুজ্জামানের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা: এ কে এম কামরুজ্জামান জানান, রাজিব ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় এর চিকিৎসা করলে সুস্থ করা সম্ভব। তার চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন।
রাজিবের বাবা আলিমুদ্দিন জানান, অভাবের সংসার তার উপর সবার ভরন পোষন। যা আয় হয় তা এখন রাজিবের পিছনে খরচ করতে হচ্ছে। তাই খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। কিন্তু যে অসুখ রাজিবের জীবনে চেপে বসেছে তা যদি এখনি উন্নত চিকিৎসার মুখ না দেখে তাহলে হয়ত রাজীব আর এই পৃথিবীতে বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না। আর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন। আর এত টাকা আমার পক্ষে যোগান দেয়া সম্ভব না। তাই সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি। আপনাদের একটু সহযোগীতায় হয়তো আমার ছেলেকে বাঁচানো সম্ভব হবে।
তবে এলাকার যুব সমাজ রাজিবকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা নিজ উদ্যোগে এলাকার প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাজিবের জন্য অর্থ সাহায্য প্রার্থনা করছেন। এছাড়াও রাজিবকে বাঁচাতে এলাকায় মাইকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তারা নিজেরাই প্রতিদিন রিক্সায় মাইক বেধে সকলের কাছে তার জন্য নগদ কিছু অর্থেও যোগান দিচ্ছেন।

পাঠকের মতামত