অসম্ভবকে সম্ভব করা এক জয়

লঙ্কানদের দেয়া রানের পাহাড় টপকে নিশ্চিত হারকে জয়ে পরিণত করেছে বাংলাদেশ দলের টাইগার বাহিনী।

শ্রীলঙ্কার বোলিং কোচ; রুমেশ রত্নায়েকে, পরশু সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন চৌকস ক্রিকেট খেলার কথা। সেটাই দেখা গেল মাঠে, তবে চৌকস ক্রিকেট খেলার কথা শ্রীলঙ্কার কিন্তু খেলল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি ইনিংসের সৌধ গুঁড়িয়ে দিতে মাহমুদ উল্লাহর দলের লাগল ১৯ ওভার ৪ বল। ম্যাচ শেষে তামিম ইকবাল বলেন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার দৃঢ় সংকল্প থেকেই এসেছে এই অসম্ভবকে সম্ভব জয়।

‘৪৮ ঘণ্টা আগেও যে দলটা ভারতের দ্বিতীয় সারির বোলারদের বিপক্ষে কুঁকড়ে থেকেছে ভয়ে, ১২০ বলের ম্যাচে দিয়েছে ৫৫টা ডট বল; তারাই কি করে টি-টোয়েন্টিরই ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডটা গড়ে ফেলল? এমন প্রশ্নে তামিমের উত্তর, আসলে আমরা সবাই খুব করে চাচ্ছিলাম একটা জয়। এমন নয় যে এই ম্যাচ জিতলেই আমাদের সব ভুল শুধরে যাবে, আমরা রাতারাতি ভিনগ্রহের দল হয়ে যাব। কিন্তু আমরা বোঝাতে চাইছিলাম, এতটা খারাপ দল আমরা নই।’

আমরা নিজেরা কথা বলেছি, সবার মধ্যেই সেই ইচ্ছাশক্তিটা দেখেছি। সেই শক্তিরই সমন্বিত বিস্ফোরণেই নিজেদের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলেও হেরে গেল শ্রীলঙ্কা। তামিম জানালেন, মধ্য বিরতিতে কি কথা হয়েছিল ড্রেসিংরুমে, ‘আমরা বলছিলাম, প্রথম ৬টা ওভার যদি ভালো একটা পাওয়া যায়, এরপর মাঝের ওভারগুলোতে যদি এক-দুই করে রান নিয়ে স্মার্ট ক্রিকেট খেলি তাহলে শেষে যেকোনো কিছুই হতে পারে।’ হয়েছেও তাই, লিটনের অমন শুরুর পর তামিম নিজে হাল ধরেছেন, সৌম্য জুগিয়েছেন যোগ্য সঙ্গত। আর ম্যাচের নায়ক মুশফিককে নিয়ে বলতে গিয়ে তো ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন তামিম, ‘মুশফিক ভাই তাঁর এত বছরের ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা দিয়েই আমাদের এই ম্যাচটা জিতিয়েছেন। বেঙ্গালুরুর অভিজ্ঞতা থেকেও আমরা শিখেছি। উনিই (মুশফিক) সেদিন মাঠে ছিলেন, আজকেও কিন্তু তিনিই ম্যাচটা জিতিয়েছেন। সেই ম্যাচের পর উনার যেমন সমালোচনা করা হয়েছিল, এই ম্যাচটা জেতানোর পর সেভাবেই উনার প্রশংসা করা উচিত।’

আলোচনায় আসে মুশফিকের উদ্‌যাপন ভঙ্গিও, যেটা সংবাদ সম্মেলনে খোলাসা করলেন তামিম, ‘আমাদের বোলার নাজমুল হোসেন অপু উইকেট পেলে এভাবে উদ্‌যাপন করে। ওর সঙ্গে ড্রেসিং রুমে আমরা অনেক মজা করি। মুশফিকও হয়তো তাঁর সেই সর্পনৃত্যের মতোই উদ্‌যাপন করতে চেয়েছেন। সেই সঙ্গে জানালেন, বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলেও যে টি-টোয়েন্টিতে বড় রান করা যায়, সেটাও প্রমাণ হয়ে গেল এই জয়ে, ‘আমাদের মহেন্দ  সিং ধোনি নেই যে সাতে নেমে খেলা শেষ করে আসবে, আমাদের ক্রিস গেইল নেই যে প্রথম বল থেকেই ছক্কা মারতে শুরু করবে। কিন্তু আমরা চৌকস ক্রিকেট খেলে দেখিয়ে দিয়েছি, বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলেও বড় রান করা সম্ভব।’

দলকে জয় এনে দেয়া পর্যন্ত হাল ধরেছেন মুশফিকুর রহিম,  ৩৫ বলে ৭২ রান করে। ৫টি চার ও ৪টি ছক্কা হাঁকান এই তারকা ব্যাটসম্যান। লঙ্কানদের হয়ে নুয়ান প্রদীপ দুটি, দুশমান্থা চামীরা ও থিসারা পেরারা নেন একটি করে উইকেট। এর আগে ম্যাচটিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং ঝড় শুরু করেন লঙ্কান দুই ওপেনার। উদ্বোধনী জুটিতে ৪.২ ওভারেই ৫৬ রান তোলেন তারা। তবে বাধা হয়ে দাঁড়ান পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। দানুষ্কা গুনাথিলাকাকে বোল্ড করে মোটামুটি স্বস্তি এনে দেন দলে। কিন্তু সেই স্বস্তিতে ফের দীর্ঘশ্বাসে পরিণত করেন মেন্ডিস ও পেরেরা। দুজন মিলে দলীয় সেঞ্চুরি পার করেন। আর সে মুহূর্তে বল হাতে আসেন পার্টটাইম বোলার রিয়াদ-সৌম্য। এসেই ম্যাজিক দেখান রিয়াদ। তুলে নেন মেন্ডিসের উইকেট।  যদিও ততক্ষণে ব্যক্তিগত অর্ধশতক পাড়ি দিয়ে ফেলেছেন তিনি।   শেষের দিকে উইকেট পতনের মাঝেও ঠিকই ব্যাটিং ঝড় চালিয়ে যান পেরেরা-থারাঙ্গা। মূলত টপঅর্ডার ও লোয়ার অর্ডারের থারাঙ্গার কল্যাণে বড় সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় লঙ্কানরা।  ম্যাচটিতে বাংলাদেশের মুস্তাফিজ তিনটি, মাহমুদউল্লাহ দুটি এবং তাসকিন একটি উইকেট লাভ করেন।

 

পাঠকের মতামত