মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরিতে বিষাক্ত বর্জ্যের ব্যাবহার, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

পাল্ট্রি ফিডে বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য, গভীর সংকটে জনস্বাস্থ্য’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, পাল্ট্রি ও মাছের খাবারে (ফিড) পাওয়া যাচ্ছে বিষাক্ত ট্যানারির বর্জ্য। চামড়ার বর্জ্যে রয়েছে অত্যন্ত ক্ষতিকর উপাদান। এসব বর্জ্য দিয়ে মাছ ও মুরগির খাবার তৈরি হওয়ার ফলে ডিমে মাত্রাতিরিক্ত ক্রোমিয়াম নামে রাসায়নিক পদার্থ ধরা পড়ছে।

২০১১ সালে চামড়ার বর্জ্য দিয়ে মাছ-মুরগির খাবার তৈরি বন্ধের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।  হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পরও সাভারে চামড়ার বর্জ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে মাছ ও মুরগির খাবার। এতে রয়েছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল।

খোলা জায়গায় শুকানো হচ্ছে ট্যানারির ঝুট। তা দিয়ে সাভারে তৈরি হচ্ছে মাছ ও মুরগির খাবার।

হাজারিবাগ থেকে নিয়ে আসা এই ট্যানারি বর্জ্যগুলো সিদ্ধ করে রাখা হয় এখানে। দু-এক দিন পর সেগুলো চুর্ণ করা হয় এই মেশিনে। তারপর বস্তায় ভরে পাঠানো হয় মাছ মুরগির খাবার তৈরির কারখানায়।

ট্যানারিতে চামড়ার মান ঠিক রাখতে ব্যবহার করা হয় একশোটির বেশি কেমিক্যাল। এর মধ্যে বেশি থাকে ক্রোমিয়াম ও ক্যাডমিয়াম।

চিকিৎসকেরা বলছেন, ট্যানারির বর্জ্য থেকে মাছ ও মুরগির মস্তিষ্ক ও হাড়সহ বিভিন্ন অংশে জমা হয় ক্রোমিয়াম। আর তা রান্নার পরও নষ্ট হয় না। এসব মাছ-মুরগি খেলে হতে পারে কিডনি নষ্ট ও লিভার ক্যান্সারের মতো রোগ। শিশুর জন্মগত ত্রুটির আশঙ্কাও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোববার সাভারের ভাকুর্তায় ট্যানারি ঝুট দিয়ে মাছ-মুরগির খাবার তৈরির কারখানায় অভিযান চালায় র‍্যাব। আটজনকে আটক এবং বন্ধ করা হয় ৬টি কারখানা।

পাঠকের মতামত