প্রশ্ন ফাঁস: ‘আমার পরামর্শ শোনার সময় উনার কোথায়? উনি তো ব্যস্ত’। | বিডি৩৬০নিউজ

প্রশ্ন ফাঁস: ‘আমার পরামর্শ শোনার সময় উনার কোথায়? উনি তো ব্যস্ত’।

প্রশ্নফাঁস নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের জামাতা ইমরান এইচ সরকার। এ বিষয়ে তাঁর কিছু পরামর্শ আছে। কিন্তু সেটি তিনি তার শ্বশুরকে দিতে পারছেন না।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান ফেসবুকে তার এই বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।

গত কয়েক বছর ধরেই প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে তোলপাড় চলছে দেশজুড়ে। সরকার নানা চেষ্টা করেও এটি বন্ধ করতে পারছে না। নানামুখি ব্যবস্থা নেয়ার পরও চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের প্রশ্ন পরীক্ষার আগে আগে এসেছে ফেসবুকে।

যারা প্রশ্ন ফাঁস করছে তারা এর বিনিময়ে কোনো টাকা চাইছে না। শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, এখানে সরকারকে বিব্রত করাই তাদের মূখ্য উদ্দেশ্য।

শিক্ষামন্ত্রীর জামাতা ইমরান এইচ সরকার তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে শুক্রবার লিখেছেন, প্রশ্নফাঁসের মূল হোতা কে সেটা খুঁজে বের করা সরকারেরই দায়িত্ব। কিন্তু আমরা আর চাই না আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যাক। আমাদের বাঁচান, আগামীর প্রজন্মকে বাঁচান।’

এই কমেন্টে বিভিন্ন জন ইমরানকে নানা প্রশ্ন ও মন্তব্য করেছেন। ইমরানও তার বেশ কিছুর জবাব দিয়েছেন।

মনজুর স্বপন নামে একজন ইমরানকে লিখেছেন, ‘আপনার শ্বশুর আর শাশুড়ি এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন। আমাদের ভাবি সাহেবানও জেনে থাকতে পারে মূল হোতা কে বা কারা!!’

জবাবে ইমরান লেখেন, ‘সেটা তাদের বলাই ভালো। আমি ভাই নিরীহ মানুষ!’

মোহাম্মদ রাজু নামে একজন লিখেছেন, ‘এই দায়িত্ব নিয়ে আপনার শ্বশুর বসে আছে, আপনি উনারে কিছু পরামর্শ দিন।’

আর এই মন্তব্যের জবাবেই ইমরানের হতাশা ঝরে পড়েছে। তিনি লেখেন, ‘আমার পরামর্শ শোনার সময় উনার কোথায়? উনি তো ব্যস্ত’।

Select Files

প্রশ্ন ফাঁস রোধে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি না-এমন প্রশ্নে ইমরান এইচ সরকার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমার সুনির্দিষ্ট পরামর্শ নেই। তবে বিষয়টি এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। যারা প্রশ্ন ফাঁস করেছে তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। একের পর এক পরীক্ষা বিতর্কিত হতে থাকলে সেটা হতাশাজনক। এ ক্ষেত্রে সরকারকে ফুল এফোর্ট দিতে হবে। সামগ্রিকভাবে কোথায় কোথায় দুর্বলতা আছে, কোথা কোথা থেকে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে, তার সবই সিল করে দিতে হবে।’

‘যারা প্রশ্ন ফাঁস করছে, তারা চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে এবং সেটা পারছেও। তারা ফোন নম্বরও দিচ্ছে। আমার মনে হয় এখানে মনিটরিং ঠিকমত হচ্ছে না। যারা এসব করছে তাদেরকে ধরা যাবে না কেন? বক্তব্য, বিবৃতি বাদ দিয়ে কিছু করা হচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে।’

ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘আমার মনে হয় একটা ঘাটতি আছে। যদি তারা না পারেন, অন্য অনেকের সঙ্গে আলোচনা করুক, প্রশ্ন করুক। মানুষের আইডিয়া নিক। সরকার এমনিতে বন্ধ করলে বাহবা দিতাম। কিন্তু তারা তো সেটা পারছে না। তারা বিশিষ্ট নাগরিক, বা অন্যদের পরামর্শ নিতে পারে। সামাজিক মাধ্যমেও তারা পরামর্শ চাইতে পারে।’

আপনি কি এই বিষয়গুলো মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন?- এমন প্রশ্নে ইমরান বলেন, ‘দেখুন আমি ওনার মেয়েকে বিয়ে করেছি, কিন্তু আমরা দুইজন আলাদা মানুষ, আমরা ভিন্ন রাজনীতি করি, রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে সেভাবে আলোচনাও করি না। আর আমাকে এসব নিয়ে প্রশ্ন করা উচিত না। তারপরও আমাকে ফেসবুকে অনেকেই প্রশ্নগুলো করেছে বলে আমি জবাবও দিচ্ছি।’

‘আমার সঙ্গে ওনার (শিক্ষামন্ত্রী) খুব কম দেখা হয়। আমি ওনার বাসায় যাই না। তবে দেখা হলে এই বিষয়গুলো বলি। কিন্তু তিনি যদি আগ্রহ প্রকাশ না করেন, তাহলে তো যেচে পড়ে বলা যায় না।’

২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীরে ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময় সারাদেশে পরিচিত হয়ে উঠেন ইমরান এইচ সরকার। তিনি ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর শিক্ষামন্ত্রীর মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয়ের শিক্ষক নাদিয়া নন্দিতা ইসলামকে বিয়ে করেছেন।

সরকারের মন্ত্রীর জামাতা হলেও ইমরান বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অবস্থানের বিপরীতে তার স্বতন্ত্র অবস্থান ও বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। মন্ত্রিসভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যে খড়সা অনুমোদন করেছ, তার বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

এই আইনের ‘গণবিরোধী’ ধারা বাতিলের দাবিতে ২ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে সমাবেশও করেছেন তিনি। ইমরান বলেন, কোনোভাবেই এই আইন সংসদে পাস হতে দেওয়া হবে না। সরকারকে কন্ঠরোধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে।’

একই দিন ইমরান প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। তার আগের দিন চলমান এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথম বর্ষের পরীক্ষার ২৪ মিনিট আগে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

শনিবার বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা শুরুর পৌনে এক ঘণ্টা আগেই প্রশ্ন ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমগুলোতে।

শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে ঢাকাটাইমসের। তিনি সেদিন দাবি করেন, বৃহস্পতিবার যে প্রশ্ন সামাজিক মাধ্যমে এসেছে, সেটা পাওয়া গেছে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর। তবে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার পর মন্ত্রীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি তিনি ফোন না ধরায়।

এবার এসএসসি পরীক্ষা শুরুর আগে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রশ্ন ফাঁস হলে পরীক্ষা বাতিল হবে। তবে এখন পর্যন্ত নেয়া দুটি পরীক্ষার একটিও বাতিলের বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি।

পাঠকের মতামত