সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গুহার সন্ধান | বিডি৩৬০নিউজ

সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গুহার সন্ধান

হস্যের জালে বোনা মায়ান সভ্যতা। যে সভ্যতার একটি বড় অংশ এখনো রয়েছে আমাদের দৃষ্টির অন্তরালে। তবে গবেষকদের প্রচেষ্টায় প্রায়ই একেকটি রহস্যের পর্দা উন্মোচন হতে দেখা যায়। এবার মেক্সিকোর সমুদ্র তলদেশে সন্ধান মিলেছে সেই হাজার বছরের পুরনো মায়ান সভ্যতার একটি গুহার। তবে পার্থক্য হলো কালের বিবর্তনে গুহাটির স্থান হয়েছে স্থল থেকে জলে।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলেন, ‘এটি নিছক কোন গুহা নয়, বরং ইতিহাসের সাক্ষ্য, হাজারো অজানা তথ্যের ভাণ্ডার। আমরা জানতে পারবো কিভাবে মায়া সভ্যতার বিবর্তন হয়েছে। তাদের ধর্মানুভূতি বা জীবন ব্যবস্থা কেমন ছিলো তার অনেকটাই পরিস্কার হওয়া যাবে।’

৩৪৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই গুহাটি কালের বিবর্তনে ডুবে গেছে সমুদ্রের গভীরে। যা কিনা পানির নীচে সবচেয়ে বড় গুহা বলে বিবেচিত হয়েছে। পূর্ব মেক্সিকোর ইউকাতান উপদ্বীপের তলদেশের এই গুহাটি সংরক্ষণে এরইমধ্যে গঠন করা হয়েছে গ্র্যান্ড অ্যাকিউফেরো মায়া-জি এ এম নামে সংস্থার। তাদের লক্ষ্য গবেষণার মাধ্যমে মায়ানদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার নতুন দিক উন্মোচন করা।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা আরও বলেন, ‘এই অঞ্চলদের মায়ানদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি জানতে এই আবিষ্কারটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে। প্রাক হিস্পানিকদের সম্পর্কেও আমরা নতুন তথ্য পাবো। যারা স্প্যানিশ বিজয়ের আগেই এই অঞ্চলে প্রাধান্য বজায় রেখেছিলো।’

প্রায় ২০০ ফুট গভীর জলধারের মধ্যে এই গুহাটি ভ্রমনপিপাসু ও অভিযাত্রীদের নৈসর্গিক অভিজ্ঞতার স্বাদ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্থানটিকে নিরাপদ করে তুলতে আরো সময় প্রয়োজন বলে জানান গবেষকরা। গুহাটি মূলত দুটি জায়গার মধ্যে সংযোগ সৃষ্টি করায় সেখানে এখনো সহজে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ খুঁজতে কাজ চলছে।

এদিকে গবেষকরা বলেন, পানির নীচে এতোবড় প্রাকৃতিক গুহা দেখতে আগ্রহী অভিযাত্রীদের কমতি হবেনা। এটা নিঃসন্দেহে একটি বড় আয়ের উৎস হতে পারে। মানুষের আনন্দের খোরাকও হবে। এক্ষেত্রে সবার নিরাপত্তা বিশেষত পানি পরিস্কার রাখার বিষয়টি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি ইউকাতান উপদ্বীপের সমুদ্র তলদেশে ভূমিক্ষয়ের ফলে একটি বিশালকাল পাথর সরে যাওয়ায় নতুন পানি প্রবাহের সন্ধান মেলে। দীর্ঘ সময় ধরে আবদ্ধ স্বাদু-নোনা পানি আর গ্যাসীয় হাইড্রোজেন সালফাইডের ওই জলনিমগ্ন নদী নিয়ে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে ডুবুরিরা এই গুহাটির সন্ধান পান। যা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রত্নতত্ত্ববিদদের মধ্যে

সুত্র: সময় সংবাদ

পাঠকের মতামত