‘মেসি-রোনালদোর চেয়েও প্রতিভাবান ছিলেন রোনালদিনহো’

আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর ঘোষণার পর থেকেই প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন রোনালদিনহো। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনাল্ডো-রিভালদো থেকে শুরু করে জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, ইতালিয়ান কিংবদন্তি আন্দ্রেয়া পিরলো, যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল কিংবদন্তি কবি ব্রায়ান্ট, সবাই বিদায়ী রোনালদিনহোর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এমনকি ‘শত্রু’ গার্দিওলাও শত্রুতা-তিক্ততা ভুলে সাবেক শিষ্যকে ভাসিয়েছেন প্রশংসায়। তবে প্রশংসা মাপার মাপকাঠি যদি থাকত, সবার উপরে হয়তো থাকত ডেকোর প্রশংসাটাই। বার্সেলোনার সাবেক এই মিডফিল্ডার কোনো রাকডাক না রেখেই বললেন, লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর চেয়েও বেশি প্রতিভাবান ছিলেন রোনালদিনহো।

 গোল করার বিস্ময়কর দক্ষতা আর পায়ের কারুকার্যে হালের মেসি-রোনালদো নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন অন্য উচ্চতায়। দুজনেই জায়গা করে নিয়েছেন সর্বকালের সেরাদের তালিকায়। হালের দর্শকরাও তাই মেসি-রোনালদোতেই বুদ। তাদের কাছে ডেকোর এই দাবিকে একটু অতিরঞ্জিতই মনে হতে পারে। কিন্তু রোনালদিনহোর খেলা যারা দেখেছেন, ভ্রু না কুচকে ডেকোর এই রায়কে হয়তো সম্মানই জানাবেন তারা।

সত্যিকার অর্থেই অমিয় প্রতিভা দিয়েই ফুটবল বিধাতা পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন রোনালদিনহোকে। অবিশ্বাস্য সেই প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পুরো ফুটবল দুনিয়াকে মোহিতও করেছিলেন। রোনালদিনহো ছিলেন ফুটবলের শিল্পী। মদ, নারী আর নৈশক্লাব নেশায় ডুবে ‘প্রতিভার অপচয়’ না করলে রোনালদিনহো ফুটবল ইতিহাসে কোন উচ্চতায় থাকতেন, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আক্ষেপ আছেই। থাকবে চিরকাল।

‘মেসি-রোনালদোর চেয়েও প্রতিভাবান ছিলেন রোনালদিনহো’

আন্দাজে নয়, নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা আর সচোক্ষে দেখা থেকেই প্রতিভার বিচারে হালের মেসি-রোনালদোর চেয়েও এগিয়ে রেখেছেন রোনালদিনহোকে। মেসি, রোনালদো এবং রোনালদিনহো-এই তিনজনের সঙ্গেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন ডেকো। ২০০৪-২০০৮, এই ৪টি বছর বার্সেলোনায় খেলেছেন ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভুত পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডার। বার্সায় তাই ম্যাচের পর ম্যাচ খেলেছেন মেসি-রোনালদিনহোর সঙ্গে। পর্তুগালের জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ৭টি বছর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সঙ্গেও।

 মেসি-রোনালদোর সামর্থ কতটুকু, কতটা প্রতিভাবান, কতটা পরিশ্রমী-সবই ডেকো দেখেছেন খুব কাছ থেকে। দেখেছেন রোনালদিনহোকেও। বাস্তব সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ৪০ বছর বয়সী ডেকোর স্পষ্ট রায়, প্রতিভাবার পাশাপাশি মেসি-রোনালদো অনেক বেশি পরিশ্রমী। প্রতিভার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রমের সমন্বয় ঘটিয়েই মেসি-রোনালদো নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিশ্বসেরা হিসেবে। তবে ঈশ্বর প্রদত্ত ন্যাচারাল প্রতিভা বলতে যা বোঝায়, সেই দিক থেকে রোনালদিনহোই এগিয়ে।

‘মেসি-রোনালদোর চেয়েও প্রতিভাবান ছিলেন রোনালদিনহো’

ফুটবলের জনপ্রিয় ওয়েবসাই গোল ডট কমকে দেওয়া সাক্ষাৎকার ডেকো দ্বিধাহীন কণ্ঠে বলেছেন, ‘লিও মেসি বা ক্রিস্তিয়ানো, দুজনেই প্রতিভাবান। পাশাপাশি তারা প্রচণ্ড পরিশ্রমী। বার্সেলোনায় কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই মেসি নিজেকে এই পর্যায়ে তুলে এনেছে। ক্রিস্তিয়ানোও তাই। সত্যিকারের পেশাদার।’

এরপরই সাবেক সতীর্থ রোনালদিনহোর প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, ‘কিন্তু রোনালদিনহো ন্যাচারাল প্রতিভাবান। বিশেষ দক্ষতা ছিল তার ছিল। তাকে বল দিলেই, গতি আর গোল করায় ভিন্ন কিছু দেখতে পারত ফুটবল বিশ্ব। লিও এবং ক্রিস্তিয়ানোর চেয়েও সে বেশি প্রতিভাবান ছিল। মাঠে আমরা যখন বুঝতাম না কি করতে হবে, অবিশ্বাস্য দক্ষতায় সে রাস্তাটা দেখিয়ে দিত।’

রোনালদিনহোর মতো ফুটবলের একজন জাত শিল্পীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলতে পেরে কৃতজ্ঞ ডেকো। ব্রাজিলিয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞ বার্সেলোনা ও স্পেনের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার জাভিও। সাবেক সতীর্থের প্রশংসা করে জাভি স্পষ্টই বলেছেন, ‘রোনালদিনহো বার্সেলোনার ইতিহাসটাই বদলে দিয়েছেন।’

সুত্র: পরিবর্তন

পাঠকের মতামত