জঙ্গি আস্তানায় নিহতরা সবাই জেএমবি সদস্য: র‌্যাব

রাজধানীর নাখালপাড়ায় নিহত হওয়া তিন জনই জেএমবির সদস্য বলে জানিয়েছে র‌্যাব। শুক্রবার দুপুরে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এমন তথ্য জানান তিনি। তবে তাদের নাম-পরিচয় এখনো জানানো হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নাখালপাড়ার ‘রুবি ভিলা’য় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাসা ঘেরাও করে র‍্যাব। এক পর্যায়ে ৬ তলা ওই ভবনের ৫ তলা থেকে জঙ্গিরা গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে র‌্যাব ও জঙ্গিদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় তিন জঙ্গি নিহত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ও পুরাতন এমবি সংসদ সদস্যদের হোস্টেলের পেছনেই ওই বাসার অবস্থান।

তবে এই রুবি ভিলায় এর আগে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছিলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় অভিযানে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এমন তথ্য জানিয়েছেন। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা বিষয়টি র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযানের বিষয়টি স্বীকার করেন।

র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিম নাখালপাড়াস্থ রুবি ভিলায় আগে আরো দু’বার অভিযান চালানো হয়েছিলো। প্রথমে ২০১৩ সালে অভিযান চালানো হয়, পরবর্তীতে ফের ২০১৬ সালে। দুই দফার অভিযানে সন্দেহভাজন ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো বলেও জানান মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি আরো জানান, জঙ্গিরা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করেই সেখানে অবস্থান করছিলো। তবে এ সংবাদটি পেয়ে যায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পরে সেখানে অভিযান চালানো হয় নয়তো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তেমন কিছু ঘটেনি। বাড়ির সবাই নিরাপদে আছেন বলেও জানান র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা।

আজ বিকাল ৪টার দিকে তিন জঙ্গির লাশ উদ্ধার করে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর পরেই অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। ওদিকে অভিযান চলাকালে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার সকালে পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।

এ সময় তিনি জানান, জঙ্গিরা জাহিদ নামের একটি আইডি কার্ড ব্যবহার করে গত ৪ জানুয়ারি বাসা ভাড়া নিয়েছে। তবে ভেতরে আরোকটি কার্ড পাওয়া গেছে। তবে দুটি কার্ডের ছবি একই, কিন্তু নাম আলাদা। এদিন নিহত হওয়ার আগে জঙ্গিরা একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। এছাড়া বাসার ভেতর আরেকটি গ্রেনেড পাওয়া গেছে।

র‌্যাবের ডিজি আরও বলেন, নিহতরা সবাই ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী। মেস হিসেবে সেখানে বাসা ভাড়া নিয়েছিল তারা। বাসার কেয়ারটেকারের মাধ্যমে তারা বাসা ভাড়া পরিশোধ করতো।

পাঠকের মতামত