সমঝোতা ছাড়া সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না : সুজন

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে এবং নির্বাচনকালীন সরকার ও সংসদ ভেঙে দেয়া সম্পর্কে একটি ঐকমত্যে না পৌঁছলে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে তার নিশ্চয়তা কোনোভাবেই দেয়া যায় না।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে রংপুরের সফল নির্বাচনের ধারাবহিকতা রক্ষায় করণীয় শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, রংপুর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সেখানে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা প্রদর্শন এবং জন আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে সর্বশক্তি নিয়োগ। কমিশন ৩৩ জন নির্বাহী ম্যাজিট্রেটের অধীনে ৩৩টি এবং বিচারিক ম্যাজিট্রেটের অধীনে ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাড়ে পাঁচ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করেছে। সর্বোপরি রংপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসন তথা সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোও সদাচারণ করেছে। একইসাথে এ নির্বাচনে গণমাধ্যম ওয়াচডগের ভূমিকা পালন এবং নাগরিক সমাজও ব্যাপক সক্রিয়তা প্রদর্শন করেছে।

সুজন সম্পাদক বলেন, সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারবে না, যদি না সরকার ও রাজনৈতিক দল সদিচ্ছা প্রদর্শন এবং দায়িত্বশীল আচরণ না করে। তাই রংপুরের নির্বাচন মানুষের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করলেও, তা থেকে আগামী নির্বাচনগুলো, কেমন হবে তার কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে না।

আলোচনায় অংশ নেন সুজন নির্বাহী সদস্য আলী ইমাম মজমুদার, ড. আসিফ নজরুল, সাবেক অতিরিক্ত সচিব শফিউল আলম, রাজনীতিবিদ হুমায়ুন কবীর হিরু, সুজন ঢাকা জেলা কমিটির সম্পাদক আবুল হাসনাত, ক্যামেলিয়া চৌধুরী, মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, এই নির্বাচন কমিশন রংপুরের নির্বাচনের আগে কুমিল্লায় একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সক্ষম হয়েছে তা ভুলে গেলে চলবে না। রংপুরের নির্বাচনে আইন-শৃ্খংলা বাহিনীর সাড়ে পাঁচ হাজার সদস্য কাজ করেছে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করার জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিউল আলম বলেন, আমরা নৈরাশ্যবাদী হতে চাই না। আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রত্যাশা ও আন্তরিকতা থাকলে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। একজন নাগরিক হিসেবে আমি আশা করি, রংপুরের নির্বাচনের ধারাবাহিকতা আগামী নির্বাচনগুলোও অব্যাহত থাকবে।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, রংপুরের নির্বাচন নিয়ে আমরা খুব একটা আশাবাদী হতে পারি না। কেননা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল অংশগ্রহণ করতে পারেনি। নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক হয় তাহলে সরকারের যত খারাপ দূরভিসন্ধি থাকুক না কেন, তাতে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা সহজ হয় না।

পাঠকের মতামত