ইনশা আল্লাহ আ.লীগের মনোনয়ন ফরম তুলব: আতিকুল

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জনসংযোগ শুরু করে দেয়া আতিকুল ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেতের ভিত্তিতেই তিনি প্রচারণা চালিয়ে এত দূর এসেছেন। যথাসময়ে দলের মনোনয়ন ফরম তুলবেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহজাদপুর লেকপাড় বস্তি এলাকায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে উঠান বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।

তবে ডিএনসিসির উপনির্বাচনে দল কাউকে নিশ্চিত করেনি বলে জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকে তিনি বলেন, আ.লীগের প্রার্থী কে হবেন তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আতিকুল বলেন, ‘আমি কিন্তু বলেছি আমি গ্রিন সিগনাল পেয়েছি। এর ভিত্তিতেই কিন্তু আজকে আমার এই পর্যন্ত আসা। বিভিন্ন জায়গায় আমার মতবিনিময় হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সাক্ষাতের বর্ণনা দিয়ে আতিকুল বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার দেখা হয়েছে গত ২৩ ডিসেম্বর। তিনি আমাকে বলেছেন, ‘তুমি জনগণের সাথে পরিচিত হও, ঢাকাবাসীর সাথে পরিচিত হও। আওয়ামী লীগ অনেক বড় সংগঠন এর নেত্রীবৃন্দের সাথে পরিচিত হও’।”

প্রধানমন্ত্রীর উপদেশ অনুসারে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান পোশাকশিল্পের শীর্ষ ব্যবসায়ী আতিকুল। তিনি বলেন, ‘অনেকে আমাকে বিজনেসম্যান হিসেবে চেনেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ আমাকে তেমন চেনেন না। আমি মনে করি এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ আমার জন্য, তাই সেটার ধারা কিন্তু আমি অব্যাহত রেখেছি। আমি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের সাথে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে পরিচিত হচ্ছি।’

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৬ জানুয়ারি দলের মনোনয়ন বোর্ড মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। এর আগে ১৩, ১৪  ও ১৫ জানুয়ারি দলের মনোনয়ন ফরম বিলি করা হবে।

আতিকুল বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ আল্লাহর রহমতে মনোনয়নপত্র উঠাব। ১৩, ১৪ কিংবা ১৫ জানুয়ারি আমি অফিসিয়ালি আপনাদের সবাইকে জানাব। তবে যেহেতু ১৫ তারিখ দলের মনোনয়নপত্র তোলার শেষ দিন, তার আগেই আমি কোনো দিন উঠাব সেটি।’

মেয়র পদে জয়ী হলে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক যেখানে শেষ রেখে গেছেন, সেখান থেকে নিজের নতুন উদ্যোগগুলো যুক্তে করে আবার ডিএনসিসিকে সচল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) এই সাবেক সভাপতি।

প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পথসভা, উঠান বৈঠকসহ কোনো ধরনের প্রচারণা না চালানোর জন্য গতকাল রিটার্নিং অফিসার সম্ভাব্য সব প্রার্থীর কাছে অনুরোধ করেন।

তারপরও এ ধরনের পরিচিতি পর্ব ও উঠান বৈঠক করার ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী বলেন, ‘আমি কিন্তু স্টেজ করে অনেক মাইক দিয়ে সমাবেশ করছি না। আজকে যদি আমি আরো বড় সমাবেশ করতাম, তাহলে আরো অনেক অনেক লোক হতো। আমি সেটা না করে অত্র এলাকার যে নেতৃবৃন্দ আছে তাদের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য উঠান বৈঠক করছি।’ নির্বাচন কমিশন এ ধরনের প্রচারও যদি নিষেধ করে তাহলে তাকে শ্রদ্ধা দেখাবেন বলে জানান তিনি।

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ‘পরিচ্ছন্ন ঢাকা’র অন্যতম উদ্যোগ ছিল দেয়াল লিখন ও পোস্টারিং বন্ধ করা। এতে তিনি প্রাথমিকভাবে সাফল্য লাভ করেন। তার মৃত্যুতে ডিএনসিসির শূন্য আসনে ক্ষমতাসীন আ.লীগ দলের হয়ে মেয়র পদের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন আতিকুল ইসলাম। তবে নির্বাচনী পরিচিতি পর্বের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় তার সমর্থনে দেয়ালে সাঁটানো বিভিন্ন পোস্টার নজরে আসার পর কিছুটা সমালোচিত হন সদ্য রাজনীতিতে পা দেয়া এই ব্যবসায়ী।

আতিকুল বলেন, ‘মার্কা নিয়ে বা পোস্টারিং নিয়ে আমার ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। যারা যারা আমার পোস্টার টাঙ্গিয়েছে তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছি যে, আমাদের ঢাকা শহর হোক সবুজের। ঢাকার দেয়াল যেন পোস্টারে সয়লাব না হয়ে যায়।’

৪ জানুয়ারি রাত ৯টা ৪২ মিনিটে আতিকুল ইসলাম তার ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, ‘ঢাকাকে ভালোবেসে ও পরিচ্ছন্ন করার স্বার্থে আমার সকল অনুরাগী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের কাছে বিনীত অনুরোধ- আপনারা আমার জন্য যেসব পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড ইত্যাদি লাগিয়েছেন, তা অনুগ্রহ করে খুলে/নামিয়ে রাখুন।…আসুন আমরা সবাই মিলে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই।’

সুত্র: ঢাকাটাইমস

পাঠকের মতামত