দুধ হজম হচ্ছে না? করনীয় বিষয়সমূহ দেখে নিন

ল্যাকটোজ হচ্ছে দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য থেকে প্রাপ্ত একধরনের শর্করা । আমাদের দেহের বেশিরভাগ খাদ্য পরিপাক হয় ক্ষুদ্রান্ত্রে। সেখানে একটি এনজাইম সংশ্লেষ হয় তার নাম ল্যাকটেজ। এই এনজাইম ল্যাকটোজকে ভেঙ্গে মৌলিক উপাদান গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজে পরিণত করে। এরপর এইসব মৌলিক উপাদান আমাদের রক্তের সাথে মিশে যায়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এই ল্যাকটোজের ভাঙন হয় না এবং এই অবস্থাকে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বলে। ল্যাকটেজ নামক ঐ এনজাইমটির অনুপস্থিতি ঘটলে সাধারণত এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স এবং এলার্জি সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। এলার্জি হয় অতিসংবেদনশীলতার কারণে আর ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স হয় লাকটেজ নামক এনজাইমটির অনুপস্থিতির কারণে। ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স হলে শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে শরীরে এক জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়।

লক্ষণসমূহঃ

• স্ফীত পেট
• তলপেটে ব্যথা
• ডায়রিয়া
• গ্যাস
• বমি বমি ভাব

করণীয়ঃ  এই অবস্থা থেকে প্রতিকার পাওয়া যায় না। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে অধিকাংশ ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অনেকের ক্ষেত্রে ল্যাকটোজের পরিমাণ কম বা সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হয়। অধিকাংশ দোকানে ল্যাকটোজ ফ্রি বা লো ল্যাকটোজ দুধ কিনতে পাওয়া যায়। এখানে ল্যাকটোজ উপাদানটির মৌলিক উপাদান গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজ আলাদা করাই থাকে। ফলে ঐ ব্যক্তির হজম করতে কোন সমস্যা হয় না এবং ঐ ব্যক্তি দুধ থেকে অন্যান্য উপাদানগুলিও লাভ করে। যা সুস্বাস্থ্য রক্ষায় অধিক উপযোগী। পাশাপাশি ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে অন্যান্য ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করতে ভুলবেন না। যাদের বর্তমানে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স নেই তারা নিয়মিত বা মাঝে মাঝে দুধ পান করুন। নিয়মিত বা মাঝে মাঝে দুধ পান করলে ল্যাকটেজ এনজাইমটি সক্রিয় থাকে। আর ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স হলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলুন এবং সুস্থ থাকুন।

লেখক: মোঃ আকতারুল ইসলাম (আজিম), খাদ্য প্রযুক্তি ও পুষ্টিবিজ্ঞান, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

atrustit-black-friday-offer

পাঠকের মতামত