মরণব্যাধি এইডস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখবেন যেভাবে

বর্তমান বিশ্বের বহুল-পরিচিত একটি নাম এইডস (AIDS)৷ এটি একটি মরণব্যধি৷ এইডস এর পুরো অর্থ অ্যাকোয়ার্ড ইমিউন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম৷ এইডস এইচআইভি(HIV) ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগ৷ উন্নত অনুন্নত সকল দেশেই এইচআইভি আক্রান্ত হচ্ছে লক্ষ লক্ষ নারী, পুরুষ ও শিশু৷ বিশেষ করে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়৷ এইডস প্রথম সনাক্ত করা হয় আমেরিকাতে, ১ঌ৮১ সালে৷ তবে প্রথম দেখা যায় ১ঌ৭০ সালের শেষদিকে আফ্রিকার বিষবিয় অঞ্চলে এবং ১ঌ৭৮ সালে যুক্তরাজ্যে৷ এইচআইভি ভাইরাস রক্তের শ্বেত কণিকাগুলোকে নষ্ট করে দেয়৷ ফলে এইচআইভি আক্রমণে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়৷ যার ফলে যেকোনো ধরনের রোগে শরীর খুব তাড়াতাড়ি দুর্বল হয়ে পড়ে৷

.

এইডস এর লক্ষণ ও উপসর্গ

সংক্রমণের ধাপের উপর নির্ভর করে এইচআইভি ও এইডসের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো পৃথক হয়ে থাকে।

সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে:

জ্বর

মাথা ব্যথা

গলা ভাঙা

লসিকাগ্রন্থি ফুলে উঠা (Swollen lymph glands)

শরীরে লালচে দানা (Rash) ইত্যাদি লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়।

সংক্রমণের পরবর্তী সময়:

অস্থিসন্ধি ফুলে উঠা (Swollen lymph nodes)

ডায়রিয়া

শরীরের ওজন কমা

জ্বর

কাশি এবং শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়।

সংক্রমণের শেষ পর্যায়ে:

রাতের বেলা খুব ঘাম হওয়া

কয়েক সপ্তাহ ধরে ১০০ ফারেনহাইট (৩৮ সে.) বা এর অধিক তাপমাত্রার জ্বর অথবা কাঁপুনি

শুকনা কাশি এবং শ্বাস কষ্ট

দীর্ঘদিন ধরে ডায়রিয়া

মুখ অথবা জিহ্বা বেঁকে যাওয়া অথবা সাদা দাগ পড়া

মাথা ব্যথা

সবকিছু অস্পষ্ট ও বিকৃত দেখা

তীব্র অবসাদ অনুভব

তিন মাসের অধিক সময় ধরে অস্থিসন্ধি ফুলে থাকা ইত্যাদি লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়।

শিশুদের ক্ষেত্রে এইচআইভি’র লক্ষণ:

ওজন বৃদ্ধি না পাওয়া

স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়া

হাঁটতে সমস্যা

মানসিক বৃদ্ধি দেরিতে হওয়া

কানের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া এবং টনসিলের মতো সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার প্রকট আকার ধারণ করা

কিভাবে এইডস ছড়ায়:

শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে

এইচআইভি সংক্রমিত রক্ত আদান-প্রদানের মাধ্যমে

কারো ব্যবহৃত সুচ এবং সিরিঞ্জ ব্যবহারে মাধ্যমে

সিরিঞ্জের মাধ্যমে দুর্ঘটনা জনিত কারণে

গর্ভবতী মা এইচআইভিতে আক্রান্ত হলে, ডেলিভারীর সময় এবং আক্রান্ত মায়ের দুধ পান করলে শিশুর এই রোগ হতে পারে।

শরীরের কোনো অঙ্গ বা কলা প্রতিস্থাপন করলে অথবা জীবাণুমুক্ত করা হয়নি এমন সরঞ্জাম দিয়ে দাঁতের চিকিৎসা বা অপারেশন করলে।

যা করলে এইডস ছড়ায় না:

আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে খাওয়া দাওয়া করলে

আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত পায়খান (Toilet) ব্যবহার করলে

আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে হাত মিলালে

আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে খেলাধূলা, কোলাকুলি করলে

এই থালায় ভাত খেলে

এইডসে আক্রান্ত হলে জীবন-যাপন পদ্ধতি

শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন না করা

গর্ভধারণ না করা

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখানো

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন ও নির্দেশনা মেনে চলা

প্রতিষেধক গ্রহণ

সুষম খাদ্য যেমন-তাজা শাকসবজি, ফলমূল ইত্যাদি খাওয়া

যেসব খাবার খেলে সংক্রমণ হতে পারে যেমন-কাঁচা খাবার সেগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকা

বিশুদ্ধ পানি পান করা

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা

পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম

ধূমপান ও মদপান থেকে বিরত থাকা

হাত ভালোমত পরিষ্কার করা

এইডস প্রতিরোধের উপায়:

নিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন

এইচআইভি আক্রান্ত কারো সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা থেকে বিরত থাকা

অপরিষ্কার এবং কারো ব্যবহৃত সুচ ব্যবহার না করা

কারো থেকে রক্ত গ্রহণ করতে হলে সেটা এইচআইভি সংক্রমিত কিনা পরীক্ষা করে দেখা

নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা

এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির ব্লেড এবং টুথব্রাশ ব্যবহার না করা

গর্ভবতীদের ক্ষেত্রে সঠিক যত্ন নেয়া

সতর্কতার সাথে নিজের শারীরিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রতি খেয়াল রাখা

এইডস কেন হয়

বিশেষ এক ধরণের জীবাণু এইচআইভি (Human Immunodeficiency Virus) দ্বারা সংক্রমণের মাধ্যমে এইডস হয়।

কাদের এইডস হবার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে?

যাদের এইডস হবার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে তারা হলেন :

যারা একের অধিক সঙ্গীর সাথে অনিরপদ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন

যাদের এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে

সিফিলিস (Syphilis), হার্পিস (Herpes), ক্ল্যামাইরিয়া (Chlamydia), গনোরিয়া (Gonorrhea) অথবা Bacterial vaginosis এর মতো যৌনবাহিত রোগ (Sexually Transmitted Disease) হলে

অন্যের ব্যবহৃত সুচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার করলে

এইচআইভি আক্রান্ত মায়েদের গর্ভ থেকে জন্ম নেয়া শিশু

atrustit-black-friday-offer

সুত্র: পরিবর্তন

পাঠকের মতামত