’বিশ্বকাপে কাউকে ভয় পায় না ব্রাজিল’

বিশ্ব ফুটবলে বরাবরই সমীহ জাগানো এক শক্তি ব্রাজিল। তবে গত বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে নাকাল হবার পর ব্রাজিলিয়ান ফুটবলকে ‘মৃতপ্রায়’ সার্টিফিকেট দিয়ে দিয়েছিলেন অনেকে। চর্তুমুখী চাপ মাথায় নিয়ে এরপরের সময়টায় যাচ্ছে তাই পারফম্যান্সও করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

দলের ক্রমাগত ব্যর্থতায় কার্লোস দুঙ্গাকে সরিয়ে শেষ পর্যন্ত কোচ করা হয় তিতেকে। তিতে দায়িত্ব হাতে নিতেই বদলাতে থাকে দলটি। আবারও সেই পুরোণো ব্রাজিলকে দেখা যায় মাঠে। যারা কিনা প্রথম দল হিসেবে আগামী বিশ্বকাপে পা রাখে।

ব্রাজিলের এই দলটির চালিকাশক্তি নেইমার। ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড আছেন ক্যারিয়ারের তুঙ্গে। তার উপরই অনেকটা নির্ভর করছে রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সাফল্যের বিষয়টি। বিশ্বকাপের ড্র, দল আর নিজেকে নিয়ে পরিকল্পনা; সব কিছু নিয়েই ‘ফিফা ডটকম’-এর সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে কথা বলেছেন পিএসজি তারকা।

প্রশ্ন : ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের ড্র’কে সামনে রেখে, কোনো দলকে কি ব্রাজিল এড়িয়ে যেতে চায়?

নেইমার : না। ব্রাজিল যে কাউকে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। আমরা এমনভাবেই ট্রেনিং করেছি, যাতে কাউকে ভয় না পাই। এটা বিশ্বকাপ, তাই এখানে সেরা দলই খেলবে। দলগুলো মানসম্পন্ন, ভালোভাবে প্রস্তুত। আপনি এখানে কাউকে দুর্বল ভাবতে পারবেন না। আপনাকে শুধু বিশ্বকাপে যাওয়ার প্রস্তুতিটা নিতে হবে।

প্রশ্ন : ফাইনাল ড্রয়ের মত ইভেন্ট আপনি কিভাবে অনুসরণ করেন?

নেইমার : অবশ্যই আপনি কার বিরুদ্ধে খেলবেন, সেই অপেক্ষায় থাকতে পারেন না। আমার মনে হয় না, এটা কোনো ব্যাপার। এই ধরণের উপলক্ষ্যে আপনি মাইক্রোওয়েভে পপকর্ন দেবেন, পরিবার আর বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে টিভি দেখতে থাকবেন (হাসি)।

প্রশ্ন : আপনি বলছেন, ড্র’টা কোনো বিষয় নয়। তাহলে বিশ্বকাপ জেতার জন্য ভাগ্য কতটা সহায়ক?

নেইমার : ভাগ্য? খুব কম। আমি মনে করি না, ভাগ্য কোনো দলকে জিতিয়ে দিতে পারে। আমি মনে করি, তারাই প্রকৃতপক্ষে চ্যাম্পিয়ন যারা দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে এবং গ্রুপপর্বে বা নকআউটে যে কোনো প্রতিপক্ষকে মোকাবেলায় প্রস্তুত।

প্রশ্ন : ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল যে সম্মান হারিয়েছিলেন, সেটা ফেরত পেয়েছে মনে হচ্ছে। আপনি কি একমত?

নেইমার : হ্যাঁ, আমি একমত। বিশ্বকাপের পর তিন চার বছর আগে এই দলটার প্রতি সম্মান যে পর্যায়ে ছিল, এখন অন্য পর্যায়ে। মানুষ এখন আমাদের অন্যভাবে দেখছে। যে ব্রাজিলকে সবাই সম্মান এবং শ্রদ্ধা করতো, সেটা ফেরত এসেছে। সে দলটি যারা ফুটবল উপভোগ করে এবং আমাদের খুশি করে। আমাদের ভক্ত এবং দেশের মানুষের মনোভাব বদলেছে। সবাই আত্মবিশ্বাসী এবং বিশ্বকাপের দিকে খুশিমনে তাকিয়ে আছে। আপনি এটার মূল্য দিতে পারবেন না।

প্রশ্ন : ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ আপনার ক্যারিয়ারে কি ভূমিকা রাখতে পারে। ২০১৪ সালের টুর্নামেন্ট বাজেভাবে শেষ হবার পর?

নেইমার : (একটু ভেবে) এটা অদ্ভূত। কারণ আমি যেভাবে চেয়েছিলাম বিশ্বকাপটা সেভাবে শেষ করতে পারিনি। অবশ্যই আমি শিরোপা জিততে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি জিতিওনি, হারিওনি। আমি তো বিশ্বকাপটা শেষই করতে পারিনি। আমার টুর্নামেন্টটা শেষ হয়েছিল মারাত্মক এক ইনজুরিতে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাকে এর মূল্য দিতে হয়েছে।

প্রশ্ন : আপনার সেই মুহুর্তের অনুভূতিটা কেমন ছিল?

নেইমার : সেটা আমার জন্য খুবই খারাপ একটা সপ্তাহ ছিল। আমি অনেক কেঁদেছি এবং নিজেকে অনেকবার জিজ্ঞেস করেছি, কেন এমন হলো! তবে আপনাকে বুঝতে হবে, জীবনে যা ঘটে সেটা আপনাকে আরও শক্তিশালি করার জন্য, যদি আপনি সে সময় সেটা নাও চান। এটা আপনাকে শিখতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতেও। আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপটা ব্রাজিলিয়ানদের জন্য বিরাট কিছু হবে। আমি এটা জিততে নিজের সবটুকু দিয়ে দেব।

প্রশ্ন : আপনি শুধু গোলস্কোরারই নন, আপনি ম্যাচে অনেক অ্যাসিস্টও করে থাকেন। কোনটি আপনার বেশি ভালো লাগে?

নেইমার : দুটিই আমার ভালো লাগে। বেশি ভালো লাগে, যখন দলের জন্য ভালো কিছু হয়; সেটা প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে হোক অথবা ব্রাজিলের জন্য। সব সময় লক্ষ্য থাকে গোল করার, সতীর্থকে পাস দিলে সে যদি নেটে বল জড়াতে পারে, সেটাও আমার জন্য আনন্দের। দুটোই একইরকম অনভূতি, বলতে গেলে একই।

প্রশ্ন : খেলোয়াড় কি জন্ম নেয়? নাকি শিখে?

নেইমার : আপনাকে তো শিশু বয়স থেকেই শিখতে হয়। আপনাকে অবশ্যই স্বার্থপর এবং নিজেকে নিয়ে ভাবলেই চলবে না। কেননা দিনশেষে ফুটবল একটা টিম গেম। সতীর্থকে বল দেয়া এবং গোল করতে সাহায্য করার মানসিকতাটা আপনার ছোটবেলা থেকেই গড়ে উঠতে হবে। অবশ্যই এমন সময় আসে, যখন আমি নিজেই শেষ করি, আমার মধ্যেও এই প্রবণতা থাকে। তবে পাস দিতে এবং অ্যাসিস্ট করতেও আমার ভালো লাগে। এমনটাই হওয়া উচিত।

প্রশ্ন : শেষ প্রশ্ন। আপনি বাক্যটা শেষ করবেন। ২০১৮ সালে নেইমার…

নেইমার : (হাসি) ২০১৮ সালে নেইমার বিশ্বকাপে খুবই খুশিতে থাকবে।

atrustit-black-friday-offer

পাঠকের মতামত