সাবেক সরকারি কর্মকর্তা থেকে জঙ্গি প্রশিক্ষক

রংপুরে নব্য জেএমবির ট্রেনিং সেন্টার ছিল সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তার বাসায়। তার নাম আবদুর রউফ প্রধান। রাজধানীতেও একটি জঙ্গি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে তিনি বয়ান দিতেন। রউফ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সাবেক প্রকৌশলী। তার সঙ্গে নব্য জেএমবির সমন্বয়ক তামিম চৌধুরীসহ ১৪ জঙ্গির যোগসূত্র ছিল। বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হয়ে সম্প্রতি কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) টিম রউফকে গ্রেফতার করে। এরপর মিরপুর থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা মামলায় (মামলা নম্বর-৪৮, (৭) ১৬) তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। ওই মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন রউফ। তার জবানবন্দিতে ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নব্য জেএমবির অনেক গোপন তথ্য উঠে আসে। এর আগেও বিভিন্ন সময় নব্য জেএমবির কানেকশনে চিকিৎসক, ব্যাংকার, প্রকৌশলী,

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হয়। মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামসহ অনেকে পুলিশের অভিযানেও নিহত হয়।

রউফ তার জবানবন্দিতে জানান, ২০১৫ সালে নব্য জেএমবির নেতা সারোয়ার জাহান, রিপন, আবেশ, আশফাক, কামাল, আজহার ও সুলতান মাস্টার তার রংপুরের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করত। তারা অন্যদের কাছে রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেয়। একসময় রিপন তাকে প্রস্তাব দেয়_ তারা নব্য জেএমবি একটি প্রশিক্ষণ সেন্টার খুলেছে; সেখানে তাকে বয়ান দিতে হবে। তাদের প্রস্তাবে তিনি সাড়া দেন। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে নব্য জেএমবির একটি গ্রুপের সঙ্গে তিনি ঢাকায় আসেন। মিরপুর-১ নম্বরের একটি বাসায় ছিল ট্রেনিং সেন্টার। সেখানে নিয়মিত যাতায়াত ছিল মারজান, হাসান, আজমল, মাজেদ ও রহিমের। ট্রেনিং সেন্টারের আয়-ব্যয় ও খরচের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব ছিল মারজানের ওপর। ট্রেনিংয়ে প্রথমে ইমান-আকিদা ও বিদাতের বিষয়ে ধারণা দেওয়া হতো। ওই ট্রেনিং সেন্টারে একদিন তামিম চৌধুরী, নয়ন, খালিদ ও সাইফুল্লাহ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। গাবতলীতে এসআই ইব্রাহিমকে হত্যার পর মিরপুর-১ নম্বর থেকে ট্রেনিং সেন্টারটি শেওড়াপাড়ায় স্থানান্তর করা হয়।

জবানবন্দিতে রউফ আরও জানায়, ইব্রাহিমকে হত্যার পর মারজান তাকে জানায়, এর সঙ্গে জড়িতরা তাদের সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। পুরান ঢাকার হোসনী দালানে বোমা হামলার পর রউফ নব্য জেএমবির এই গ্রুপ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি তিনি নব্য জেএমবির নেতা নয়নকে জানান। এতে নয়ন ক্ষিপ্ত হয়। ২০১৫ সালের ৮ ডিসেম্বর আবেশ তাকে এসএমএস পাঠিয়ে শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার কথা বলে। সেখানে যাওয়ার পর তাকে একটি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার বিরুদ্ধে সালিশ বৈঠক হয়। তাতে তামিম, রিপন, মারজান, খালিদ, সাইফুল্লাহ তাদের মতামত দেয়। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কিছুদিন পর নব্য জেএমবির আস্তানা থেকে রউফ চলে যান।

কাউন্টার টেররিজমের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ডা. সানাইদের মাধ্যমে উগ্রবাদে জড়ায় সাবেক সরকারি কর্মকর্তা রউফ। তার পৈতৃক বাড়ি গাইবান্ধায় হলেও পরে রংপুরের কোতোয়ালি থানার কেরানীপাড়ায় তিনি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। জেএমবির আধ্যাত্মিক নেতা কাশেমের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। রংপুর থেকে নব্য জেএমবির যেসব সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হতো, তাদের অনেকের উদ্দেশ্যে বয়ান দিয়েছিলেন রউফ। – See more at: http://bangla.samakal.net/2017/02/03/267528#sthash.3VVWjvNu.dpuf

Agami Soft. - Inventory Management System

সুত্র: সমকাল

পাঠকের মতামত